Skip to content
SENAPATHI Report

আরও দুটি Sea Guardian: Predator আসার আগে পর্যন্ত নজরদারির জন্য ১,৯৪৩ কোটি টাকার লিজ নিল নৌবাহিনী

আরও দুটি MQ-9B Sea Guardian লিজ নিতে General Atomics-এর সঙ্গে ৩০ মাসের জন্য ১,৯৪৩ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক — যার ফলে নৌবাহিনীর ভাড়ায় নেওয়া দীর্ঘ নজরদারি বহর দ্বিগুণ হচ্ছে এবং ২০২৮ সাল থেকে কেনা ৩১টি Predator আসা শুরু না হওয়া পর্যন্ত এই ঘাটতি পূরণ হবে।

Senapathi Desk

Staff reports & analysis

Published

3 min read

A General Atomics MQ-9 unmanned aircraft in maritime surveillance configuration flying low over an Independence-class littoral combat ship at sea, its long straight wings and rear propeller clearly visible against dark blue water.
A GA-ASI MQ-9 flying the SeaGuardian maritime-surveillance role over USS Coronado during a US Pacific Fleet exercise, April 2021 (representative US Navy photo). Photo: US Navy / MCC Shannon Renfroe, public domain, via Wikimedia Commons

ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য আরও দুটি MQ-9B Sea Guardian HALE ড্রোন লিজ নেওয়ার জন্য গত ১৭ অগাস্ট General Atomics Aeronautical Systems-এর সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক — প্রায় ১,৯৪৩ কোটি টাকার এই ৩০ মাসের ‘লিজ অ্যান্ড অপারেট’ ব্যবস্থাটি নয়াদিল্লির কর্তব্য ভবন-২-এ অতিরিক্ত সচিব ও ডিরেক্টর জেনারেল (অধিগ্রহণ) এ. আনবারাসুর উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হয়।

মন্ত্রকের ঘোষিত উদ্দেশ্যটি বেশ পরিচিত: বিশাল সামুদ্রিক অঞ্চল জুড়ে একটানা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ (ISR) চালানো, যাতে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যেকোনো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ে। Sea Guardian মূলত এই কাজের জন্যই তৈরি — Predator-B পরিবারের একটি নিরস্ত্র সামুদ্রিক সংস্করণ, যা প্রায় ৪০ ঘণ্টা আকাশে উড়তে পারে এবং এমন সব সমুদ্রপথে নজরদারি চালিয়ে নিজের ঘাঁটিতে সরাসরি ছবি ও সেন্সর ডেটা পাঠাতে পারে, যেখানে কোনো মানবচালিত বিমান এত দীর্ঘ সময় নজর রাখতে পারে না।

আট মাসেরও কম সময়ে অনুমোদন থেকে চুক্তি

এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিলের গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের নেওয়া সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হলো, যেখানে একটি বৃহত্তর অধিগ্রহণ প্যাকেজের অংশ হিসেবে অতিরিক্ত দুটি Sea Guardian লিজ নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংগ্রহের মানদণ্ডে অনুমোদন থেকে চুক্তি স্বাক্ষর পর্যন্ত আট মাস সময় অত্যন্ত দ্রুত — আর এর কারণ হলো এটি দ্বিতীয়বারের মতো করা হচ্ছে। ২০২০ সালের শেষ দিক থেকেই নৌবাহিনী একজোড়া লিজ নেওয়া Sea Guardian পরিচালনা করছে, যে ব্যবস্থার মেয়াদ বারবার বাড়ানো হয়েছে এবং অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে এর পরীক্ষাও হয়েছে: ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বঙ্গোপসাগরে এই বিমানগুলির একটি ভেঙে পড়ে এবং লিজ চুক্তির শর্ত মেনে General Atomics সেটির বদলে আরেকটি বিমান সরবরাহ করে। এই মডেলটি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে, এর অবকাঠামো ও চালক দল ইতিমধ্যেই তৈরি এবং বহর দ্বিগুণ করা এখন কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, বরং কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।

এর আর্থিক দিকটিও স্পষ্টভাবে বুঝে নেওয়া দরকার। ৩০ মাসে ১,৯৪৩ কোটি টাকা মানে প্রতি মাসে প্রতিটি বিমানের জন্য প্রায় ৩২ কোটি টাকা খরচ — যার মধ্যে কেবল বিমানের কাঠামো নয়, চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত পরিচালন সহায়তার খরচও ধরা রয়েছে। এটি মোটেই সস্তা নয়। তবে যখন নৌবাহিনীর ঠিক এই মুহূর্তেই নজরদারির সময় প্রয়োজন হয় এবং কেনা বিমান হাতে পেতে এখনও কয়েক বছর বাকি থাকে, তখন যেকোনো নৌবাহিনীকেই এই মূল্য চোকাতে হয়।

Predator বহর আসার আগের সেতু

কারণ এই লিজ ব্যবস্থাটি মূলত একটি সেতুবন্ধন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে মার্কিন সরকারের সাথে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের FMS চুক্তির মাধ্যমে ভারত নিজস্ব ৩১টি MQ-9B বিমান কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করে — যার মধ্যে নৌবাহিনীর জন্য ১৫টি Sea Guardian এবং সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর জন্য আটটি করে Sky Guardian রয়েছে, যা আমেরিকা ও তার মিত্রদের ব্যবহৃত অস্ত্রসজ্জিত সংস্করণের মতো। ২০২৮ সাল থেকে সরবরাহ শুরু হয়ে পরবর্তী চার বছর ধরে তা চলার কথা রয়েছে, এবং General Atomics ভারতে রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সংস্কার (MRO) কেন্দ্র স্থাপনেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই দুটি সময়সীমা পাশাপাশি রাখলেই এই লিজ ব্যবস্থার আসল নকশা স্পষ্ট হয়ে যায়। এখন থেকে শুরু হওয়া ৩০ মাসের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৯ সালের শুরুর দিকে — ঠিক যে সময়ে কেনা প্রথম বিমানগুলি ভারতের মাটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। নৌবাহিনী ঠিক এই শূন্যস্থান পূরণ করতেই ড্রোনগুলি ভাড়া নিচ্ছে, যার জন্য ২০২০ সালের প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় তৈরি একটি বিশেষ ব্যবস্থার সাহায্য নেওয়া হয়েছে।

এর পেছনের মূল তাগিদটি আসছে স্বয়ং ভারত মহাসাগর থেকেই। চীনা নৌবাহিনীর উপস্থিতি, নজরদারি জাহাজ এবং এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলিতে তীব্র বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নৌবাহিনীর কাছে সার্বক্ষণিক সামুদ্রিক নজরদারির প্রয়োজনীয়তা বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে — প্রতিদিন নজরদারির প্রচুর সময় ব্যয় হচ্ছে, যা কৃত্রিম উপগ্রহ এবং P-8I বিমানের নিয়মিত টহল দিয়ে একটানা পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়। দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে চক্কর দিয়ে চারটি লিজ নেওয়া Sea Guardian স্যাটেলাইটের নজরদারি ও মানবচালিত টহলের মধ্যকার শূন্যস্থান পূরণ করবে।

এখন দেখার বিষয়: নতুন দুটি বিমান কত দ্রুত এসে পৌঁছায় এবং সেগুলি কোথা থেকে পরিচালিত হয়; ২০২৮ সালে প্রথম অস্ত্রসজ্জিত MQ-9B সরবরাহের সময় ঘনিয়ে এলে এই লিজ নেওয়া বহরের ওড়ার ধরনে কোনো পরিবর্তন আসে কি না; এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ MRO পরিকাঠামোর অগ্রগতি কতটা হয়, যার ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে এই বহরের রক্ষণাবেক্ষণ ভারত কতটা নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে। এই লিজ ব্যবস্থাটি একটি সাময়িক বন্দোবস্ত মাত্র; তবে আসল পরীক্ষা হবে এই সাময়িক বন্দোবস্ত শেষ হওয়ার পর স্থায়ী ব্যবস্থাটি কীভাবে দাঁড়িয়ে থাকে।

Sources

  1. 1. PIB: MoD inks contract with General Atomics Aeronautical Systems for leasing of two MQ-9B Sea Guardian HALE RPAS for the Indian Navy — pib.gov.in
  2. 2. The Tribune: India leases two more MQ-9B Sea Guardian drones from US firm for Navy at Rs 1,943 crore — tribuneindia.com
  3. 3. Bharat Shakti: India signs Rs 1,943 crore drone lease deal with General Atomics — bharatshakti.in

Senapathi Desk

Staff reports & analysis

The Senapathi Report news desk. Original reporting and analysis synthesised from multiple corroborated sources — defence procurement, service developments and regional security, filed as it happens.

Same tracker

Related coverage